মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী

সভাপতি

জামালপুর সদর উপজেলা সমিতি, ঢাকা

জনাব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী ২০ জুলাই ১৯৬৫ সালে জামালপুর জেলার তিতপল্ল্যা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড় দিঘুলী (জামতলী) গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার ডাক নাম কাজল। তিনি কাজল ফারুকী নামে বেশী পরিচিত। সাত ভাই দুই বোনের মধ্যে কাজল ফারুকী পঞ্চম। ৩ ভাই ও এক বোন সিভিল সার্ভিসে এবং অন্যরা সাংবাদিকতা, ব্যাংকিং ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। পিতা ভাষাসৈনিক জনাব আশরাফ হোসাইন ফারুকী। জনাব আশরাফ হোসাইন ফারুকী এদেশের একজন শীর্ষস্থানীয় ভাষাসৈনিক ছিলেন। মাতা বেগম সুরাইয়া ফারুকী স্কুল শিক্ষিকা ছিলেন। বেগম সুরাইয়া ফারুকী ২০১৪ সালে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ জয়িতা (নারীদের সম্মাননা জানানোর একটি উদ্যোগ) নির্বাচিত হন।

কাজল ফারুকী ১৯৮০ সালে জামালপুর সদর উপজেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ দিগপাইত ধরণী কান্ত উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮২ সালে জামালপুর সরকারী আশেক মাহমুদ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। তিনি ১৯৮৫ সালে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্র বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) এবং ১৯৮৬ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি জহুরুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলেন।

কাজল ফারুকী খেলাধুলায় বেশ পারদর্শী ছিলেন। তিনি ফুটবল, ভলিবল, ও হা ডু ডু ভাল খেলতেন। লেখাপড়ার প্রতি অতিমাত্রা ঝোঁক না থাকলেও সমাজের ধারাবাহিক পরিবর্তনের রুপ অবলোকন ও অনুধ্যানে তার যথেষ্ঠ আগ্রহ রয়েছে। বিশেষত ভারত উপমহাদেশের বিভিন্ন ঘটনা, স্বাধীনতা- পূর্ব বাংলা, বর্তমান বাংলাদেশের সমাজ কাঠামোসহ মানুষের সংস্কৃতি তথা জীবনযাপন পদ্ধতির উপর নিবিড় ও সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করে সেসকল ঘটনা, তাকে খুড়িয়ে দেখার চেষ্টা তার স্বভাবগত।

কাজল ফারুকী ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে সহকারী কমিশনার (প্রশাসন) হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদান করেন। গোপালগঞ্জ কালেক্টরেটে তার প্রথম পোস্টিং হয়। এর পর সহকারী কমিশনার হিসেবে পিরোজপুর ও বরিশালে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে সাঘাটা,গাইবান্ধা ও ২০০৭ সালে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে দায়িত্ব পালন শেষে বিআরটিসিতে ডিজিএম হিসেবে পদায়ন হয়।

২০০৯- ২০১৩ এর মে পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০১৩ এর মে থেকে ২০১৬ এর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক হিসেবে সততা, দক্ষতা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিন বছরের সময়ে ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঙ্গনের মানোন্নয়নে যে অতুলনীয় অবদান রেখেছেন তা ভুলা যাবেনা। তিনি তার কর্মজীবনে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংবাসীর মনে স্থান করে নিয়েছেন। কথাগুলো ময়মনসিংহবাসীর সকল শ্রেণী পেশার মানুষের মুখে মুখে। ময়মনসিংহবাসী তাকে আজীবন স্মরণ রাখবে ।

বর্তমানে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) এর দায়িত্ব পালন করছেন।

দেশে ও বিদেশে পেশাগত শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি ভারত, ফিলিপিন্স, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, কাতার, দক্ষিণ কোরিয়া, ইংল্যান্ড, জার্মানি, আমেরিকা, কানাডা ও সৌদী আরব ভ্রমণ করেন।

কাজল ফারুকী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর রেজিষ্টার্ড গ্র্যাজুয়েট ও ‘বন্ধু ৮৬’ এর আহবায়ক। জামালপুর সমিতি, ঢাকা এর যুগ্ম মহা সচিব, ১৩ শ বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার এসোসিয়েশন এর সভাপতি ও বাংলাদেশ এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন এসোসিয়েশন এর নির্বাহী সদস্য। তিনি অফিসার্স ক্লাব ঢাকা’র দুই মেয়াদে কার্যকরী কমিটির নির্বাহী সদস্য ছিলেন। তৎকালীন সময়ে (বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন) জামালপুর ছাত্র কল্যাণ সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও পরবর্তীতে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। জনাব কাজল ফারুকী বর্তমানে এক্স স্টুডেন্টস এসোসিয়েশন, দিগপাইত ধরণী কান্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত থেকে সমাজসেবামূলক কার্যক্রম করে যাচ্ছেন।

১৯৯২ সালে দিলরুবা এলিসের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। ব্যক্তিজীবনে তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী দিলরুবা এলিস মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল এন্ড কলেজে ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত আছেন।

অবসর সময়ে তিনি বইপড়া ও লেখালেখি পছন্দ করেন। তার লিখিত বইগুলোর মধ্যে ইতিহাসবিদের দৃষ্টিতে নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা ও পলাশীর ট্র্যাজেডি অন্যতম। কবিতা পড়া ও লেখার প্রতি তার ঝোঁক রয়েছে। গান শুনতে তার ভালো লাগে। আড্ডা তার খুবই প্রিয়। তিনি আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর সকল ধরণের সহায়তায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত,পরিশীলিত এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।

 

সামাজিক কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের জন্য জনাব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকীকে জামালপুরবাসী মনে রাখবেন যুগ হতে যুগান্তরে।

 

জনাব মুস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী

যুগ্ম সচিব (প্রশাসন),

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।